ভুতেরও না বলা কথা থাকে। কিন্তু তাদের দুনিয়া টা অদ্ভুত রকমের শূন্যতায় ভরা। কথা বলার মতো কেউ নেই। যেন সবাই মৌনব্রত পালন করছে। ভুত হলো কোন মানুষের স্থুলকায় অস্তিত্বের প্রাথমিক স্তর। যেখানে সব কিছুই জীবন্ত শরীরের মতো কিন্তু তা বায়বিয় অর্থাৎ বাতাস।
মানে এক কথায় বলা যায় যেখানে বাতাস বয় সেখানে ভুত রয়। কিন্তু স্থুল শরীর না থাকার কারণে ভুত মানুষের ন্যায় কথা বলতে পারে না। কারণ ঐ স্বরযন্ত্রের অভাব, কিন্তু যখন মানুষের আত্মা জাগরিত হয় তখন ভুতের কিচিরমিচির ঘন্টা বাজার মতো খুব আস্তে আস্তে শোনা যায়।
তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভুত কথা বলতে পারে না কারণ অজ্ঞতা ও যন্ত্রনা। ভুত সাধারণত টেলিপ্যাথিতে কথা বলে। অর্থাৎ মনে তে ভাবনার সম্প্রচারের মাধ্যমে। সহজ করে বললে ভুত কোন কথা কে প্রথমে দৃশ্যায়িত করে তারপর কারো মনের উপর সেই দৃশ্য সম্প্রচার করে। যে কেউ সেই সম্প্রচার গ্ৰহন করতে পারে না, একমাত্র যে যোগ্য ব্যক্তি সেই এই বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী হয়।
আর স্থুল শরীর না থাকার কারণে তাকে অন্যের শরীরের সহয়তায় কথা বলতে হয়। এখানে ভুত ভাবনা সৃষ্টি করে তার প্রতিফলন ঘটায় কোন একটি জীবন্ত মানুষের স্বরযন্ত্রের উপর। তারপর লিঙ্গ অনুযায়ী কম্পন সৃষ্টির মাধ্যমে শব্দ সৃষ্টি হয়। এটা যার নিজের স্বরযন্ত্র নেই তার কাছে রিতিমত জটিল ও যন্ত্রনা দায়ক।
কারোর অকাল মৃত্যু হলে দেখা গেছে মৃত ব্যক্তির আত্মা বদলা নেয়। বা খুনীকে শাস্তি দেয়ার চেষ্টা করে। সেই কারণে প্রেত অনেক সময় বিভিন্ন রকমের ইঙ্গিত দেয়।
বেশ কয়েক বছর আগের একটি ঘটনার কথা বলছি। আমার মামারা লেক টাউনের পিছনে পাতি পুকুর অঞ্চলে একটি তিন তলা বাড়ির দুই তলা টা কিনে থাকতে শুরু করে। একদিন মামার বাড়িতে আমাদের সবার দুপুরের নিমন্ত্রণ ছিল। খাওয়া দাওয়ার পর আমরা সবাই জমিয়ে আড্ডা দিচ্ছিলাম। তখন বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে হয় হয়। ঘর একটু অন্ধকার হওয়াতে আলো জ্বেলে দেয় এক মামা।
তখন আর এক মামা বলে একটি অদ্ভুত জিনিস দেখবি? বলে আমাদের সামনে তার ডান হাতের তালু টি মেলে ধরে। দেখি হাতের তালু টকটকে লাল, যেন হাতে তাজা রক্ত মেখে রেখেছে। মামা বলে তোদের হাতের তালু গুলো মেলে ধর। আমরা মেলে ধরতেই দেখি সবার হাতের তালু টকটকে লাল হয়ে গিয়েছে।
এটা ঐ বাড়িতে একটি মাত্র ঘরেই হতো। অন্য দুটি ঘরে কখনো দেখা যায়নি। তবে মামারা ঐ বাড়িতে কোন কারনে বেশিদিন থাকেনি। কাছাকাছির মধ্যে আর একটি বাড়িতে শিফ্ট করে যায়।
মামাদের আগে ঐ বাড়িতে একটি পরিচিত পরিবার থাকতো। তাদের একটি বউ আত্মহত্যা করেছিল, এখন এটা সত্যি নাও হতে পারে। হয়তো বউটিকে খুন করা হয়েছিল। হয়তো বা সেই মৃত বউটির কঙ্কাল ঐ ঘরের কোন দেয়ালে পুঁতে রাখা আছে।
সে হয়তো সবার হাতে রক্ত দেখিয়ে তার উপর হওয়া অন্যায়ের কথা বলতে চায়। এগুলো জাস্ট একটা ভাবনা, কারণ ঐ বাড়ির দেয়ালের রং ও সিমেন্ট ল্যাবে পরীক্ষা করে অস্বাভাবিক কিছু পাওয়া যায়নি। যদিও রক্তাক্ত হাত দেখানো বন্ধ হয়নি।
ঐ ফ্ল্যাট টি তে আগে একটি ছোটদের স্কুল ছিল। কেন স্কুল টি উঠে গিয়েছিল সেই তথ্য অবশ্য জানা যায়নি। মামারা যে পরিচিতের কাছ থেকে ফ্ল্যাট টি কিনেছিল সে অজ্ঞাত কোন কারনে খুব সস্তায় ফ্ল্যাট টি মামাদের কাছে বিক্রি করে দেয়।
এই যে খুব কম সময়ের ব্যবধানে ফ্ল্যাট টি বারবার হাত বদল হয়েছে এটা সত্যি বিষ্ময়কর। সাধারনত ভুতুড়ে বাড়ি বা ফ্ল্যাটে কেউ বেশিদিন টিকতে পারে না।
Discover more from Charchito
Subscribe to get the latest posts sent to your email.